সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি। অফিসগামী অনেক মানুষকে ছাতা বা রেইনকোট থাকা সত্ত্বেও ভিজে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। কেউ বাসস্ট্যান্ডে আটকা পড়েছেন, কেউ হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে অফিসে পৌঁছেছেন। এমন দিনে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে ফেরার পর অনেকেরই মনে একটাই প্রশ্ন বৃষ্টিতে ভিজলেই কি সত্যিই সর্দি-জ্বর হয়?
বহুদিন ধরেই আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজলেই ঠান্ডা লাগে, সর্দি-কাশি বা জ্বর হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি পুরোপুরি তেমন নয়। বৃষ্টি নয়, আসল কারণ ভাইরাস। মাকাটি মেডিকেল সেন্টারের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, বৃষ্টির পানি নিজে সর্দি-জ্বরের কারণ নয়। সাধারণ সর্দির জন্য দায়ী রাইনোভাইরাস নামের একটি ভাইরাস। ঠান্ডা পরিবেশে এই ভাইরাস তুলনামূলক ভালোভাবে টিকে থাকতে এবং বংশবিস্তার করতে পারে। বৃষ্টিতে ভিজে শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে নাক ও গলার ভেতরের অংশও কিছুটা ঠান্ডা হয়ে যায়। এমন পরিবেশে ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ বাড়তে পারে।
শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা বা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, বৃষ্টি নয়, ভাইরাসই অসুস্থতার মূল কারণ। তবে বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা অবস্থায় থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বৃষ্টির দিনে সুস্থ থাকতে যা করবেন-
১. সঙ্গে রাখুন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা, রেইনকোট বা পানি প্রতিরোধী জ্যাকেট ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে অফিসে অতিরিক্ত এক সেট শুকনো কাপড় রাখুন।
২. ভিজে গেলে দ্রুত কাপড় বদলান ও গোসল করুন
অনেকে মনে করেন, বৃষ্টিতে ভিজে আবার গোসল করলে ঠান্ডা আরও বাড়ে। বাস্তবে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে আসে এবং ত্বকে থাকা জীবাণুও ধুয়ে যায়।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশি সক্ষম।
৪. নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন
বৃষ্টির মৌসুমে ভাইরাস ও বিভিন্ন জীবাণু সহজে ছড়াতে পারে। বাইরে থেকে এসে বা কিছু খাওয়ার আগে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। এতে শুধু সর্দি-কাশিই নয়, ডায়রিয়া, কলেরা ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও কমে।
৫. শরীর গরম রাখুন
ভেজা কাপড় পরে দীর্ঘ সময় থাকবেন না। প্রয়োজন হলে গরম কাপড় পরুন, যাতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
৬. হালকা ব্যায়াম করতে পারেন
যদি শুধু হালকা সর্দি লাগে কিন্তু জ্বর না থাকে, তাহলে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি নাক বন্ধভাব কমাতে এবং শরীরকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে জ্বর থাকলে অবশ্যই বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে অফিস বা কর্মস্থলে যেতে হয় অনেককেই। তাই বৃষ্টি এড়িয়ে চলা সব সময় সম্ভব নয়। তাই বৃষ্টিতে ভিজেও সুস্থ থাকতে সচেতন থাকা দরকার।
খুলনা গেজেট/এনএম

